ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেলায় ভাসছে জীবন, পানিবন্দি শত শত পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৩:৩৮:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৭-২০২৬ ০৫:০৮:০৩ অপরাহ্ন
ভেলায় ভাসছে জীবন, পানিবন্দি শত শত পরিবার ছবি : সংগৃহীত
এটি কোনো নদীপথ নয়, এটি সাতক্ষীরা পৌরসভার একটি আবাসিক এলাকা। অথচ টানা বৃষ্টি আর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় এখানকার মানুষের নিত্যদিনের চলাচলের একমাত্র ভরসা এখন ভেলা। বাজার করা, গবাদিপশুর খাবার আনা, শিশুদের স্কুলে নেওয়া কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ সবই করতে হচ্ছে ভেলায় চড়ে। বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে শত শত পরিবার।

টানা ১৮ দিনের বৃষ্টিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নাঞ্চলগুলোতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বাড়িঘর, রান্নাঘর, আঙিনা, রাস্তাঘাট ও টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সুপেয় পানির সংকটের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও।

সবচেয়ে করুণ চিত্র দেখা গেছে পৌরসভার ৬, ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ডে। ইটাগাছা, কামালনগর, বাঁকাল, বারুইপাড়া, পলাশপোল ও মধুমোল্লার ডাঙিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি নামার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ইটাগাছা এলাকায় অনেক পরিবার এখন ভেলা ছাড়া চলাচলই করতে পারছে না।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ১ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই তাদের বাড়ির চারপাশ পানিতে ডুবে যায়। বাজার করা, গবাদিপশুর খাবার আনা থেকে শুরু করে সংসারের প্রায় সব কাজই ভেলায় করে করতে হয়। বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কামালনগরের বাসিন্দা ছবিরুনেছা বলেন, দীর্ঘদিন পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে অনেকের পায়ে ঘা হয়েছে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন বাজারে যাওয়া সম্ভব হয় না বলে একবারে কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতে হয়। প্রতিবছর প্রায় ছয় থেকে সাত মাস এভাবেই পানিবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির নেতা ওবায়দুস সুলতান বাবলু বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল ও ড্রেন দখল এবং পরিকল্পনাহীন মৎস্যঘের নির্মাণের কারণে প্রতিবছর একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ইটাগাছা এলাকায় প্রায় দেড়শ পরিবারের মধ্যে শতাধিক পরিবারের শৌচাগার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ঘের মালিক পানি আটকে রাখায় এবং বাইপাসের স্লুইস গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, চিংড়ি চাষের স্বার্থে খালে নেট-পাটা বসিয়ে যারা পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের স্বেচ্ছায় তা অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সাময়িক উদ্যোগে এ সমস্যার সমাধান হবে না। খাল ও ড্রেন পুনঃখনন, পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে প্রতিবছরই একইভাবে ভেলায় ভেসে জীবন কাটাতে হবে সাতক্ষীরার শত শত পরিবারকে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ